গত কয়েক বছর ধরে খাদ্য হিসাবে মাছের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে । এ বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারনসমূহ হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং মাছের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের উন্নয়ন । বর্তমানে শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশী সীফুড (সমুদ্র থেকে আহরিত অথবা খামারে উৎপাদিত মাছ বা মাৎস্যজাত দ্রব্য যা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়) উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে বিপণন হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হচ্ছে পৃথিবীর বৃহৎ এবং একমাত্র আমদানীকারক যা মোট উৎপাদিত সীফুডের শতকরা ৩০ ভাগেরও বেশী আমদানী করে থাকে । সীফুডের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাষকৃত মাছের যোগান দিন দিন বাড়ছে এবং বর্তমানে প্রায় পৃথিবীর মোট উৎপাদিত সিফুডের শতকরা ৫০ শতাংশেরও অধিক খামারে উৎপাদিত হচ্ছে। এই সীফুডের অধিকাংশ দক্ষিণ ও দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার বদ্বীপ বা লেগুন অধ্যুষিত অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। সীফুড বাণিজ্যে যে চারটি প্রজাতি মূল ভূমিকা রাখছে সেগুলো হলো বাগদা চিংড়ি,গলদা চিংড়ি,পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া । এগুলোর চাষপদ্ধতির ব্যাপকতা ও নিবিড়তার মাত্রা এশিয়ার কয়েকটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর টেকসইকরণ বিষয়টি একটি আন্তর্জতিক ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নৈতিক মাছচাষের বাণিজ্যকে টেকসইকরণ (সিট) প্রকল্পে (Sustaining Ethical Aquaculture Trade-SEAT) এ সমস্ত বিষয়গুলোকে গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ – এর মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ উক্ত গবেষণা প্রকল্পে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে।
সিট গবেষণা প্রকল্পের অন্যান্য সহযোগী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-
- ষ্টর্লিং বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য
- সিফাস, যুক্তরাজ্য
- কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়, ডেনমার্ক
- ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়, নেদারল্যান্ড
- লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়াম
- সাংহাই ওসান বিশ্ববিদ্যালয়, চীন
- কান থো বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েতনাম
- ক্যাসেটসার্ট বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড
- ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার, মালয়েশিয়া
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, রোম, ইটালি
- বারগেন বিশ্ববিদ্যালয়, নরওয়ে
- ডেনিস ইনিস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, ডেনমার্ক